১তরল খাবার: সবচেয়ে বড় ওষুধ
ডেঙ্গুতে শরীর থেকে পানি কমে গেলে রক্ত ঘন হয়ে যায়, যা বিপজ্জনক। তাই চিকিৎসক অন্যভাবে না বললে বড়দের দিনে মোট ২.৫ থেকে ৩ লিটার তরল খাওয়ানো হয়। শিশুদের পরিমাণ ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করে দেবেন।
- খাবার স্যালাইন (ORS), প্যাকেটের নিয়ম মেনে বানানো;
- ডাবের পানি;
- ফলের রস (চিনি কম), যেমন মাল্টা, কমলা, আনারস;
- স্যুপ, পাতলা ডাল, ভাতের মাড়;
- সাধারণ পানি, অল্প অল্প করে বারবার।
২কী খাবেন
- নরম, সহজপাচ্য খাবার: জাউ, খিচুড়ি, নরম ভাত, সবজি;
- ডিম, মাছ, মুরগির মাংসের ঝোল (প্রোটিন সেরে উঠতে সাহায্য করে);
- পেঁপে, কলা, পেয়ারা, ডালিমের মতো ফল;
- অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া, একবারে বেশি নয়।
লাল বা কালচে রঙের খাবার ও পানীয় (যেমন বিটের রস, কালো কফি) কিছুদিন এড়িয়ে চলুন। বমি বা পায়খানার রং দেখে রক্তক্ষরণ হচ্ছে কিনা বুঝতে এতে অসুবিধা হতে পারে।
৩ওষুধ: যা খাবেন আর যা একেবারেই নয়
| ওষুধ | |
|---|---|
| ✅ খাওয়া যায় | প্যারাসিটামল, চিকিৎসকের দেওয়া মাত্রায়। বড়দের দিনে ৪ গ্রামের (৫০০ মিগ্রা-র ৮টি ট্যাবলেট) বেশি নয়। |
| ❌ একদম নয় | অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন জাতীয় ব্যথার ওষুধ: রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। |
| ❌ নিজে থেকে নয় | স্টেরয়েড, অ্যান্টিবায়োটিক বা মাংসপেশিতে ইনজেকশন। |
জ্বর বেশি থাকলে প্যারাসিটামলের সাথে পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে গা মুছে দিন।
৪বাড়িতে রোগীর যত্নে আরও যা করবেন
- পুরো বিশ্রাম, স্কুল-অফিস বন্ধ রাখুন;
- রোগীকে দিনের বেলাতেও মশারির ভেতরে রাখুন, যাতে মশা কামড়ে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়াতে না পারে;
- একটা কাগজে প্রতিদিন কতটুকু তরল খেল আর কতবার প্রস্রাব হলো লিখে রাখুন;
- ডেঙ্গুর বিপদচিহ্নগুলো পরিবারের সবাইকে জানিয়ে রাখুন।